কোথায় ‘ব্য’, কোথায় ‘ব্যা’?

শব্দের শুরুতে ‘ব্য’ ও ‘ব্যা’-এর ব্যবহার নিয়ে দ্বিধায় পড়েন না- এমন মানুষ খুব কমই আছেন। আজ আমরা কথা বলবো এ দুটি শব্দাংশের ব্যবহার নিয়ে। যে-সব ক্ষেত্রে ‘ব্য’ হবে:নিয়মটি হচ্ছে: বি + অ = ব্য।ব্যাখ্যা: ‘বি’ উপসর্গের সঙ্গে ‘অ’ বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া কোনো শব্দ যুক্ত হলে সেখানে ‘ব্য’ হবে। উদাহরণ ব্যাখ্যা:বি + অগ্র = ব্যগ্র। …

Read More

‘সরকারি’, কিন্তু ‘সহকারী’

শব্দের শেষে কখন ‘কারি’ হবে, আর কখন ‘কারী’ হবে- এটি নিয়ে বেশ সমস্যায় ভুগতেহয় আমাদের। চলুন, সমাধান করে নেওয়া যাক। মনে রাখার কৌশল: ব্যক্তি বোঝালে ‘কারী’ হবে, ব্যক্তি না বোঝালে ‘কারি’ হবে। উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:১. সহকারী। এর অর্থ- সাহায্য করেন এমন ব্যক্তি। অর্থাৎ এ শব্দটি দ্বারা ব্যক্তিকে বোঝানো হচ্ছে। তাই এখানে ‘কারী’ হবে।২. সরকারি। এ …

Read More

পড়া বনাম পরা

এ দুটি শব্দ নিয়ে সকলেরই কমবেশি সমস্যায় পড়তে হয়। আজ চলুন, এ সমস্যার সহজ একটি সমাধান শিখে নেওয়া যাক। মনে রাখতে হবে: কেবল ‘পরিধান করা’ অর্থে ‘পরা’ লিখতে হবে। অন্য সকল ক্ষেত্রে ‘পড়া’ লিখতে হবে। উদাহরণ ও ব্যাখ্যা: পরা:১. সে কাপড় পরছে।২. সে চশমা পরে।৩. জুতা পরে আসোনি?এ তিনটি ক্ষেত্রেই ‘পরিধান করা’ বোঝানো হয়েছে। তাই …

Read More

‘মহামারি’, না-কি ‘মহামারী’?

‘মহামারি’ বানানে ঈ-কার হবে না। না, এটি কোনো বিদেশি শব্দ নয়; বরং একটি তৎসম শব্দই বটে।নিয়ম হচ্ছে: তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ক্রিয়ামূলের সাথে ‘ইন্’ বা ‘ণিন’ প্রত্যয় যুক্ত হলে সেখানে ঈ-কার হয়। যেমন: √গ্রহ্+ণিন=গ্রাহী, √শ্রম্+ইন্=শ্রমী, গুণ+ইন্=গুণী।‘মহামারি’ শব্দটির ক্ষেত্রে তেমনটি হয়নি। এর শেষে যুক্ত হয়েছে ‘ই’-প্রত্যয়: মহা+√মৃ+ণিচ্+ই। যেহেতু এখানে ‘ই’-প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে, তাই এর শেষে ই-কার হবে। …

Read More

দুয়া/দোয়া/দোআ

যে শব্দটি নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করতে যাচ্ছি, সেটি একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ প্রার্থনা বা আশীর্বাদ। বিশ্লেষণ: ১. দোআ: বাংলায় ‘আ’ বর্ণটি সব সময় শব্দের শুরুতে বসে। কিন্তু এখানে শব্দের শেষে বসেছে। সুতরাং ‘দোআ’ ব্যবহার করা যাবে না। ২. দুয়া: এ বানানে বাংলা ভাষায় স্বতন্ত্র একটি শব্দ রয়েছে। বাংলায় ‘দুয়া’ শব্দের অর্থ- স্বামীর ভালোবাসা-বঞ্চিত …

Read More

‘দেওয়া’, না-কি ‘দেয়া’?

ক্রিয়া হিসেবে ‘দেওয়া’ ও ‘দেয়া’ দুটো বানানেরই ব্যবহার দেখা যায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর মধ্যে একটি সঠিক, অপরটি ভুল। তাহলে কোনটি ব্যবহার করবো? চলুন শিখি। নিয়ম: বাংলা ক্রিয়াপদের গঠনশৈলী অনুযায়ী, ধাতুর শেষে এ-কার বা আ-কার থাকলে এবং তারপরে ‘আ’ যুক্ত হলে তাদের মাঝে একটি ‘ও’ বসাতে হবে। এ পদ্ধতির ব্যাকরণিক নাম হচ্ছে ‘ব-শ্রুতি’। বিশ্লেষণ:১. দে + …

Read More

‘মানববন্ধন’, না-কি ‘মানব বন্ধন’?

দুটো শব্দ কখন একসঙ্গে লিখতে হবে, আর কখন আলাদাভাবে লিখতে হবে- এটা নিয়ে প্রায়শ সমস্যায় পড়তে হয়। মনে প্রশ্ন জাগে- ‘পদার্থবিজ্ঞান’ লিখবো, না-কি ‘পদার্থ বিজ্ঞান’? ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ লিখবো, না-কি ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’?উত্তর খোঁজা যাক। নিয়মটি হচ্ছে: সমাসবদ্ধ পদের শব্দগুলো যথাসম্ভব একসঙ্গে লিখতে হবে। উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:‘তুষারশুভ্র’। এটি একটি উপমান কর্মধারয় সমাসের সমস্তপদ। যেহেতু সমাসের নিয়মে গঠিত, তাই …

Read More

কুল বনাম কূল

কূল: ‘কূল’ অর্থ- তীর, আশ্রয়, সীমা।উদাহরণ: নদীর কূল (তীর)। অকূলের কূল (আশ্রয়)। দুঃখের কূল নেই (সীমা)। এ তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া আর সকল ক্ষেত্রেই ‘কুল’ ব্যবহৃত হবে।উদাহরণ: কুলমান সবই গেল (বংশ)। প্রাণিকুল (বহুবচন)। কুল খেতে দারুণ লাগে (বরই)। আরও উদাহরণ: আকুল, ব্যাকুল, শোকাকুল।দ্রষ্টব্য: ‘প্রতিকূল’ ও ‘অনুকূল’ বানানেও ‘কূল’ হবে। কেননা এদের আক্ষরিক অর্থ যথাক্রমে ‘কূলের (তীরের) …

Read More

‘তৈরি’, না-কি ‘তৈরী’?

এ শব্দটি এসেছে মূলত আরবি শব্দ ‘তৈয়ার’ থেকে। সেখান থেকে ফারসিতে এসে হয়েছে ‘তৈয়ারি’। এরপর বাংলায় এসে হয়েছে তৈরি। আমরা জানি- বিদেশি শব্দের বানানে কখনোই ঈ-কার ব্যবহৃত হবে না। যেহেতু এ শব্দটি আরবি থেকে ফারসি হয়ে বাংলায় এসেছে, তাই এর বানানে ঈ-কার হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সুতরাং এর সঠিক বানানটি হবে ‘তৈরি’।

Read More

‘ভালো’, না-কি ‘ভাল’?

শব্দের শেষে ও-কার ব্যবহার করবো, না-কি করবো না? এটি একটি বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন খুব সহজে আজ আমরা এর সমাধান করে নেবো, চলুন। বাংলায় যে-সব শব্দে শেষের অ-ধ্বনির উচ্চারণ ও-এর মতো হয়, সে-সব ক্ষেত্রে (অর্থবিভ্রান্তি বা উচ্চারণ নিয়ে সংশয় সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে) ও-কার ব্যবহার করতে হবে। উদাহরণ ও ব্যাখ্যা: ১. ভালো, না-কি ভাল? আমরা জানি, বাংলায় …

Read More